রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া সামছু মাস্টার পাড়া গ্রামে মাদকসেবীদের ফেলে রাখা সিগারেটের আগুনে একটি পরিত্যক্ত ঘর আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোর রাতের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরে থাকা পাটকাঠি, লাকড়ি ও আসবাবপত্রসহ প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগুনে পোড়া পরিত্যক্ত ঘরের পাশের বাড়ির শান্তি বেগম নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে আগুনের তাপে ঘুম ভেঙ্গে দেখি দাও দাও করে আগুন জ্বলছে। আমার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন নেভান। ততক্ষণে ঘরে থাকা খড়ি ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, এই ঘরে কেউ থাকে না। পাশের বাড়ির দুই পরিবার ঘরে খড়ি রাখে তবে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘর তালাবদ্ধ থাকে। কয়েকদিন পর পর বিভিন্ন ধরনের নেশাখোর মানুষ তালা ভেঙে এই ঘরে নেশা করে। এই ঘর দৌলতদিয়া বাজার পরিষদের সাবেক সেক্রেটারি মান্নান সরদারের।
ভুক্তভোগী মান্নান সরদার জানান, আমার চার চালা ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা দুজন রান্না করার খড়ি ও কাঠ মজুত করে রাখতেন। তিনি আরও বলেন, ঘরটি তালাবদ্ধ থাকলেও মাদকসেবীরা মাঝে মধ্যেই তালা ভেঙে সেখানে মাদক সেবন করত। আমার ধারণা ঘটনার দিন রাতে মাদকসেবীরা নেশা করার সময় সিগারেটের আগুন খড়ির ওপর ফেলে দেয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে পরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেয়। গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘন্টাখানেক চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘরের কাঠ ও টিন মিলিয়ে আমার প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকায় মাদকের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মাদকসেবীদের বেপরোয়া চলাচলের কারণেই আজ এই দুর্ঘটনা।
এব্যাপারে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন লিডার মো. ইয়াহিয়া জানান, ভোর ৪টার দিকে লোক মারফত খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সিগারেটের আগুন থেকে এঘটনার সূত্রপাত। আনুমানিক আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মতো। তবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কারণে আশেপাশের প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।